📰#পৌষ_সংক্রান্তিতে_কি_কি_হয়েছিল❓
━️━━️━━️━━️━━️━━️━━️━️━️━━️━━️━━️━
আজ পৌষ মাসের সর্বশেষ দিন, পৌষ সংক্রান্তি! আমরা সবাই পৌষ সংক্রান্তি হিসেবে জানলেও একে মকর, উত্তরায়ণ বা তিল সংক্রান্তিও বলা হয়। চলুন, দেখা নেয়া যাক সেই মহিমান্বিত তিথিতে আসলে কি হয়েছিল!
🔹#মহাপ্রভুর_সন্ন্যাসলীলাঃ আগামীকাল কলিযুগ পাবনাবতারী শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ৫১২ তম সন্ন্যাস লীলা মহোৎসব। অর্থাৎ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ১৫১০ খ্রিস্টাব্দে মাত্র ২৪ বছর বয়সে এই পৌষ-সংক্রান্তির দিনেই কন্টকনগরে অর্থাৎ কাটোয়ায় গুরু কেশবভারতের কাছ থেকে সন্ন্যাস দীক্ষা প্রাপ্ত হন।
বৃন্দাবন দাস তাঁর চৈতন্যভাগবতে লিখেছেন👌,
এই সংক্রমণ উওরায়ণ দিবসে।
নিশ্চয় চলিব আমি করিতে সন্ন্যাসে।।
...............[#তথ্যসূত্রঃ মধ্যখন্ড, ২৬ অধ্যায়]
🔹#স্বর্গলোকে_দিনের_সূচনাঃ আমরা অনেকেই জানি, এক সৌরবর্ষে আমাদের এই মর্ত্যলোকে এক বছর পূর্ণ হলেও দেবতাদের গণনায় বা স্বর্গলোকে সেটা এক দিন মানে ২৪ ঘন্টা। এখন, ২৪ ঘন্টার মাঝে আবার ১২ ঘন্টা দিন এবং বাকী ১২ ঘন্টা রাত বিদ্যমান।
তাই স্বর্গলোকে বা দেবতাদের হিসেবে মকর সংক্রান্তি থেকে পরর্বতী ছ'মাস তাদের দিন এবং কর্কট সংক্রান্তি থেকে পরর্বতী ছ'মাস তাদের রাত। অর্থাৎ আমারা সহজেই বুঝতে পারছি যে, কালকের এই মকর সংক্রান্তি থেকেই স্বর্গলোকে নতুন একটি দিনের সূচনা শুরু হবে।
🔹#ভগবানকে_পুত্ররূপে_প্রাপ্তিঃ আমরা সবাই জানি ভগবানকে পাঁচরূপে লাভ করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম একটি হল বাৎসল্যপ্রেম। অর্থাৎ ভগবানকে পুত্ররূপে লাভ করা।
অর্থাৎ, মাতা যশোদা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তির দিন থেকে উনার কঠোর তপশ্চর্যা শুরু করেছিলেন।
🔹#ভগীরথের_পূর্বপুরুষ_উদ্ধারঃ এই মকর সংক্রান্তি দিনে ভগীরথ তিনি তাঁর পূূর্ব-পুরুষদেরকে উদ্ধার করবার জন্য গঙ্গাকে পৃথিবীতে আনয়ন করেছিলেন।
তখন গঙ্গা মহারাজ ভগীরথের পূর্ব-পুরুষদের উদ্ধার করে এই পৌষ সংক্রান্তির দিন সাগরে মিলিত হয়েছিলেন। যেহেতু গঙ্গা সাগরে মিলিত হয়েছিলেন, তাই বিশাল এক গঙ্গাসাগর মেলা অনুষ্ঠিত হয় ভারতবর্ষে।
🔹#মহামহিম_ভীষ্মেদেবের_মুক্তিঃ ভীষ্মদেব ইচ্ছামৃত্যুর বরপ্রাপ্ত ছিল, অর্থাৎ তিনি যখন ইচ্ছা করবেন তখনই প্রাণত্যাগ করতে পারবেন। মহাভারতের যুদ্ধের ১০তম দিনে ভীষ্মদেব অর্জুনের বানে শরবিদ্ধ হলেন এবং সেই অবস্থায় তিনি টানা ৫৬ দিন (কেউবা বলেন ৫৪ দিন, আমি সঠিক জানি না) তীরবদ্ধ অবস্থায় শয্যারত ছিলেন।
কারণ তিনি আজকের মকর সংক্রান্তির দিনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। গীতায় রয়েছে,
"উওরায়ণের ছয় মাস কেউ দেহ ত্যাগ করলে আর এই জগতে ফিরে আসতে হয় না।"
অতএব, পৌষ সংক্রান্তি দিনেই ভীষ্মদেব নিজ ইচ্ছায় প্রাণত্যাগ করেছিলেন।
✋#কি_করণীয়ঃ আগামীকালকের এই মহিমান্বিত দিনে আমরা যা যা করতে পারি.....
● আমরা গঙ্গা আদি পবিত্র নদীসমূহে স্নান করতে পারি।
● সাধু-ব্রাহ্মণদের দান-দক্ষিণা করতে পারি।
● যেহেতু তিল সংক্রান্তি তাই তিলের তৈরি পিঠা তৈরি করে সূর্যদেব এবং ভগবানকে নিবেদন করতে পারি।
● মহিমান্বিত এই দিনে আমরা যেন কোনো প্রকার আমিষ আহার না করি।
● আমরা বেশি করে শাস্ত্র অধ্যয়ন এবং হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করতে পারি।
ব্যাস এটুকুই যথেষ্ট! তারপর বেশি করে পিঠা খাবেন, অন্যদেরকে খাওয়াবেন, আমার জন্যও পাঠাবেন। তবে সিলেটি ভাষায় পিটা মানে মাইর দেওয়া, এটা নয় কিন্তু! 😀😄
Hariball to All.............🙌

0 Comments